সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

অধ্যয়ন প্রবন্ধ ২৬

গান ৮ যিহোবা আমাদের আশ্রয়

যিহোবা কি আপনার শৈল?

যিহোবা কি আপনার শৈল?

“আমাদের ঈশ্বরের মতো শৈল আর কেউ নেই।”১ শমূ. ২:২, NW.

আমরা কী শিখব?

যিহোবার মধ্যে এমন কোন গুণগুলো রয়েছে, যেগুলোর কারণে আমরা তাঁকে শৈল বলতে পারি এবং কীভাবে আমরা তাঁর মতো হতে পারি?

১. গীতসংহিতা ১৮:৪৬ পদে যেমনটা লেখা আছে, দায়ূদ জীবিত ঈশ্বরকে কী বলেছিলেন?

 বর্তমানে আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যখন হঠাৎই আমাদের সামনে সমস্যা চলে আসতে পারে এবং এক ধাক্কায় আমাদের জীবন ওলটপালট হয়ে যেতে পারে। এইরকম পরিস্থিতিতে কোথা থেকে আমরা সাহায্য লাভ করতে পারি? আমরা যিহোবার উপর নির্ভর করতে পারি। আগের প্রবন্ধে আমরা শিখেছিলাম, যিহোবা হলেন জীবন্ত ঈশ্বর এবং তিনি সবসময় আমাদের সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত থাকেন। যখন আমরা দেখি, তিনি আমাদের সঙ্গে রয়েছেন এবং আমাদের সাহায্য করছেন, তখন আমাদের এই নিশ্চয়তা আরও বেড়ে যায় যে, তিনি হলেন একজন “জীবিত ঈশ্বর।” (পড়ুন, গীতসংহিতা ১৮:৪৬, NW.) এই পদে দায়ূদ এটাও বলেছিলেন, যিহোবা ‘আমার শৈল।’ কিন্তু, যিহোবা তো একজন জীবন্ত ঈশ্বর, তা হলে কেন দায়ূদ তাঁকে শৈল বলেছিলেন?

২. এই প্রবন্ধে আমরা কী জানব?

এই প্রবন্ধে আমরা জানব, যিহোবাকে কেন শৈল বলা হয়েছে আর এখান থেকে আমরা কী শিখতে পারি। আমরা এটাও জানব, কীভাবে আমরা যিহোবাকে আমাদের শৈল হিসেবে দেখতে পারি। আর শেষে আমরা দেখব যে, কীভাবে আমরা যিহোবার মতো হতে পারি।

যিহোবাকে কেন শৈল বলা হয়েছে?

৩. বাইবেলে কেন প্রায়ই যিহোবাকে “শৈল” বলা হয়েছে? (ছবিটা দেখুন।)

বাইবেলে যিহোবাকে “শৈল” বলা হয়েছে, যাতে আমরা তাঁর কিছু গুণ সম্বন্ধে আরও ভালোভাবে জানতে পারি। বাইবেলে প্রায়ই যিহোবার সেবকেরা তাঁর প্রশংসায় বলেছে যে, তিনিই হলেন শৈল এবং তাঁর মতো আর কেউ নেই। দ্বিতীয় বিবরণ ৩২:৪ পদে প্রথম বার যিহোবাকে “শৈল” বলা হয়েছে। এরপর হান্না তার প্রার্থনায় বলেছিলেন, “আমাদের ঈশ্বরের মতো শৈল আর কেউ নেই।” (১ শমূ. ২:২) হবক্‌কূক যিহোবাকে তাঁর “শৈল” বলেছিলেন। (হবক্‌. ১:১২) ৭৩ গীতের লেখক বলেছিলেন, “ঈশ্বর সেই শৈল, যিনি আমার মনকে দৃঢ় করেন।” (গীত. ৭৩:২৬, NW) আর যিহোবাও নিজেকে শৈল বলেছেন। (যিশা. ৪৪:৮) তাই, এখন আসুন আমরা যিহোবার তিনটে গুণের বিষয়ে আলোচনা করি, যে-কারণে তাঁকে শৈল বলা হয়েছে আর জানার চেষ্টা করি, কীভাবে আমরা তাঁকে ‘আমাদের শৈল’ হিসেবে দেখতে পারি।—দ্বিতীয়. ৩২:৩১.

যিহোবার লোকদের জন্য তিনি হলেন “শৈল” (৩ অনুচ্ছেদ দেখুন)


৪. যিহোবা কীভাবে আমাদের আশ্রয় হন? (গীতসংহিতা ৯৪:২২)

যিহোবা আমাদের আশ্রয় হন। ঠিক যেমন, এক প্রবল ঝড়ে একটা শৈলের গুহায় একজন ব্যক্তি আশ্রয় নেন, ঠিক একইভাবে সমস্যার সময়ে যিহোবা আমাদের আশ্রয় হয়ে ওঠেন এবং আমাদের সুরক্ষা জোগান। (পড়ুন, গীতসংহিতা ৯৪:২২.) তাঁর সঙ্গে আমাদের যে-সম্পর্ক রয়েছে, তিনি সেটা কখনো নষ্ট হতে দেন না। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেন, বর্তমানে আমরা যে-সমস্যাগুলোর সঙ্গে মোকাবিলা করছি, সেগুলো সবসময় থাকবে না। শুধু তা-ই নয়, তিনি এই প্রতিজ্ঞাও করেছেন যে, তিনি সেই সমস্ত বিষয় দূর করে দেবেন, যেগুলো আমাদের দুঃখ দেয় এবং মনের শান্তি কেড়ে নেয়।—যিহি. ৩৪:২৫, ২৬.

৫. কীভাবে আমরা যিহোবাকে আমাদের শৈল হিসেবে দেখতে পারি এবং তাঁর আশ্রয় নিতে পারি?

যিহোবাকে আমাদের শৈল হিসেবে দেখার এবং তাঁর কাছে আশ্রয় নেওয়ার একটা উপায় হল, তাঁর কাছে প্রার্থনা করা। আমরা যখন তাঁর কাছে প্রার্থনা করি, তখন আমরা “ঈশ্বরের সেই শান্তি” লাভ করি, যা আমাদের হৃদয় ও মনকে রক্ষা করে। (ফিলি. ৪:৬, ৭) ভাই আরটমের উদাহরণের উপর মনোযোগ দিন, যার ঈশ্বরের উপর বিশ্বাস থাকার কারণে জেল হয়েছিল। জেলে একজন অফিসার তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য বার বার ডাকতেন এবং তাকে হুমকি দিতেন আর তাকে অপমান করতেন। ভাই বলেন, “যখন সেই অফিসার আমাকে ডাকতেন, তখন আমি অনেক ঘাবড়ে যেতাম। আমি যিহোবার কাছে প্রার্থনা করতাম, যেন তিনি আমার মনকে শান্ত করেন এবং সঠিকভাবে চিন্তা করতে সাহায্য করেন। সেই অফিসার হাজার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু আমি কখনো হাল ছেড়ে দিইনি। আমি অনুভব করেছিলাম, যিহোবা একটা দেওয়ালের মতো আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন এবং আমাকে সুরক্ষা জোগাচ্ছেন।”

৬. কেন আমরা যিহোবার উপর নির্ভর করতে পারি? (যিশাইয় ২৬:৩, ৪)

যিহোবা হলেন নির্ভরযোগ্য। একটা শৈল যেমন একটা জায়গায় স্থির থাকে, ঠিক একইভাবে যিহোবাও সবসময় আমাদের সঙ্গে থাকবেন, আমাদের কখনো একা ছেড়ে দেবেন না। বাইবেলে বলা হয়েছে, যিহোবা হলেন “যুগসমূহের শৈল,” তাই আমরা পুরোপুরি তাঁর উপর নির্ভর করতে পারি। (পড়ুন, যিশাইয় ২৬:৩, ৪.) যিহোবা হলেন জীবিত ঈশ্বর। তাই আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি, তিনি তাঁর প্রতিটা প্রতিজ্ঞা পূরণ করবেন, সবসময় আমাদের প্রার্থনা শুনবেন এবং প্রয়োজনের সময়ে তিনি আমাদের যত্ন নেবেন। আমরা যিহোবার উপর নির্ভর করতে পারি কারণ যারা তাঁর প্রতি অনুগত থাকে, তিনিও তাদের প্রতি অনুগত থাকেন। (২ শমূ. ২২:২৬) তাই, আমরা তাঁর জন্য যা-কিছু করেছি, তিনি সেগুলো কখনো ভুলে যাবেন না এবং এরজন্য তিনি আমাদের পুরস্কারও দেবেন।—ইব্রীয় ৬:১০; ১১:৬.

৭. যিহোবার উপর নির্ভর করলে আমরা কী করতে পারব? (ছবিও দেখুন।)

যিহোবাকে আমাদের শৈল হিসেবে দেখার আরেকটা উপায় হল, তাঁর উপর সম্পূর্ণ আস্থা রাখা। আমরা নিশ্চিত যে, সমস্যার সময়েও তাঁর কথা শুনলে আমরা উপকার লাভ করব। (যিশা. ৪৮:১৭, ১৮) আর আমরা যখন দেখি যে, যিহোবা কীভাবে সমস্যার সময়ে আমাদের সাহায্য করছেন, তখন তাঁর উপর আমাদের আস্থা আরও বেড়ে যায়। অনেকসময় আমরা হয়তো এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাই, যখন কেউ আমাদের সাহায্য করতে পারে না। তখন একমাত্র যিহোবাই আমাদের আশ্রয় হন এবং তাঁর সাহায্যে আমরা সমস্যার সঙ্গে সফলভাবে মোকাবিলা করতে পারি। আমরা স্পষ্টভাবে দেখতে পাই যে, যিহোবা আমাদের সঙ্গে রয়েছেন এবং তিনি আমাদের সবসময় সাহায্য করছেন। ভাই ভ্লাদিমিরও এটা অনুভব করেছিলেন। তিনি বলেন, “যখন আমি জেলে ছিলাম, তখন আমি নিজেকে যিহোবাকে আরও নিকটবর্তী অনুভব করেছিলাম। সেটা আমার জীবনের সবচেয়ে ভালো সময় ছিল। যদিও জেলে আমি একা ছিলাম এবং পরিস্থিতি আমার হাতের বাইরে ছিল, কিন্তু সেইসময় আমি আরও বেশি করে যিহোবার উপর নির্ভর করতে শিখেছিলাম।”

আমরা যখন যিহোবার উপর নির্ভর করি, তখন তিনি আমাদের শৈল হয়ে ওঠেন (৭ অনুচ্ছেদ দেখুন)


৮. (ক) কেন আমরা বলতে পারি, যিহোবা শৈলের মতোই স্থির থাকেন? (খ) যিহোবা আমাদের শৈল, তাই আমরা কোন বিষয়ে নিশ্চিত থাকতে পারি? (গীতসংহিতা ৬২:৬, ৭)

যিহোবা কখনো পরিবর্তিত হন না। যিহোবা একটা শৈলের মতো স্থির থাকেন। তাঁর ব্যক্তিত্ব ও উদ্দেশ্য কখনোই পরিবর্তিত হয় না। (মালাখি ৩:৬) এদন উদ্যানে যখন আদম ও হবা যিহোবার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন, তখন তিনি পৃথিবী এবং মানুষের জন্য তাঁর উদ্দেশ্য পরিবর্তন করেননি। তিনি যেটা করার কথা চিন্তা করেন, সেটা তিনি যেকোনো পরিস্থিতিতে পূরণ করেন। প্রেরিত পৌল যিহোবা সম্বন্ধে বলেছিলেন, “তিনি নিজেকে অস্বীকার করতে পারেন না।” (২ তীম. ২:১৩) এর মানে হল, যা-ই ঘটুক না কেন অথবা অন্যেরা যা-ই করুক না কেন, যিহোবার ব্যক্তিত্ব, তাঁর উদ্দেশ্য এবং তাঁর মান সবসময় একই থাকে। তাই আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি, যিহোবা কখনো পরিবর্তিত হবেন না। সমস্যার সময়েও তিনি আমাদের যত্ন নেবেন এবং তাঁর সমস্ত প্রতিজ্ঞা পূরণ করবেন।—পড়ুন, গীতসংহিতা ৬২:৬, ৭.

৯. আপনি বোন তাতিয়ানার অভিজ্ঞতা থেকে কী শিখেছেন?

যিহোবাকে আমাদের শৈল হিসেবে দেখার আরও একটা উপায় হল, এই বিষয়ে চিন্তা করা যে, তিনি কেমন ঈশ্বর এবং আমাদের জন্য আর পৃথিবীর জন্য তাঁর উদ্দেশ্য কী। এটা করার মাধ্যমে তাঁর উপর আমাদের নির্ভরতা আরও বেড়ে যাবে, সমস্যার সময়ও আমরা শান্ত থাকতে পারব এবং তাঁর প্রতি অনুগত থাকতে পারব। (গীত. ১৬:৮) বোন তাতিয়ানার উদাহরণের উপর মনোযোগ দিন। তার বিশ্বাসের কারণে তাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল। তিনি বলেন, “চার দেওয়ালের মধ্যে একলা থাকা আমার পক্ষে খুবই কঠিন ছিল। আমি প্রায়ই হতাশ হয়ে পড়তাম।” তারপর বোন চিন্তা করেছিলেন যে, যিহোবার প্রতি অনুগত থাকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ আর সেটার সঙ্গে যিহোবা এবং তাঁর উদ্দেশ্যের কোন সম্পর্ক রয়েছে। তখন বোন শান্ত থাকতে পেরেছিলেন এবং তার সমস্যাগুলোর সঙ্গে মোকাবিলা করতে পেরেছিলেন। তিনি বলেন, “যখন আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে, আমি যিহোবাকে ভালোবাসি এবং তাঁকে খুশি করতে চাই বলে আমার প্রতি এইসমস্ত বিষয় ঘটছে, তখন আমি নিজের বিষয়ে এবং আমার সমস্যাগুলোর বিষয়ে চিন্তা করা ছেড়ে দিয়েছিলাম।”

১০. বর্তমানে কীভাবে আমরা যিহোবাকে আমাদের শৈল হিসেবে দেখতে পারি?

১০ খুব শীঘ্রই আমাদের আরও সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে এবং এখনকার চেয়ে আরও বেশি করে যিহোবার উপর নির্ভর করতে হবে। তাই, আমাদের এখনই এই নির্ভরতা বাড়াতে হবে, যা-ই ঘটুক না কেন, যিহোবা আমাদের অনুগত থাকতে সাহায্য করবেন। কীভাবে আমরা তাঁর উপর আমাদের নির্ভরতা বাড়াতে পারি? বাইবেলে যে-সমস্ত বিশ্বস্ত উপাসকের ঘটনার বিষয়ে লেখা রয়েছে আর বর্তমানে যে-ভাই-বোনদের অভিজ্ঞতা আমরা জানতে পারছি, সেগুলো পড়ুন এবং তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করুন। যিহোবা কীভাবে তাদের কাছে নিজেকে শৈল হিসেবে প্রমাণ করেছেন, কীভাবে তিনি তাদের সাহায্য করেছেন এবং যত্ন নিয়েছেন, সেই বিষয়েও চিন্তা করুন। এমনটা করলে আপনি যিহোবাকে আপনার শৈল হিসেবে দেখতে পারবেন।

আপনার শৈল যিহোবার মতো হোন

১১. কেন আমাদের যিহোবার মতো হতে হবে? (“ অল্পবয়সি ভাইদের জন্য কিছু লক্ষ্য” শিরোনামের বাক্সটা দেখুন।)

১১ আমরা যিহোবার এমন কিছু গুণ নিয়ে আলোচনা করেছি, যেগুলোর কারণে তাঁকে শৈল বলা হয়েছে। তাই আসুন আমরা দেখি, কীভাবে আমরা নিজেদের মধ্যে সেই গুণগুলো বাড়াতে পারি আর যিহোবার মতো হতে পারি। যত বেশি আমরা নিজেদের মধ্যে সেই গুণগুলো বাড়াব, ততবেশি আমরা মণ্ডলীর ভাই-বোনদের শক্তিশালী করতে পারব। যিশু তাঁর একজন শিষ্যকে কৈফা নাম দিয়েছিলেন, (গ্রিক ভাষায় “পিতর”) যেটার মানে হল “পাথর।” (যোহন ১:৪২) যিশু বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, পরবর্তী সময়ে পিতর মণ্ডলীতে অন্যদের সান্ত্বনা দেবেন এবং শক্তিশালী করবেন। আর বাইবেলেও বলা রয়েছে, প্রাচীনেরা এক “প্রকাণ্ড শৈলের ছায়া” হবে অর্থাৎ ভাই-বোনদের সুরক্ষা জোগাবে। (যিশা. ৩২:২) তবে শুধু প্রাচীনেরাই নয়, আমরা সবাই একে অন্যকে উৎসাহিত করতে পারি এবং আমাদের শৈল যিহোবার মতো হতে পারি।—ইফি. ৫:১.

১২. কীভাবে আমরা অন্যদের জন্য আশ্রয় হতে পারি?

১২ অন্যদের জন্য আশ্রয় হোন। যখন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেয় অথবা দাঙ্গা বাধে বা যুদ্ধ হয়, তখন আমরা ভাই-বোনদের আমাদের বাড়িতে আশ্রয় দিতে পারি। “শেষকালে” পরিস্থিতি যত খারাপ হবে, ততই আমরা ভাই-বোনদের সাহায্য করার সুযোগ পাব। (২ তীম. ৩:১) আরেকটা উপায়ে আমরা ভাই-বোনদের জন্য আশ্রয় হয়ে উঠতে পারি: আমরা তাদের প্রতি ভালোবাসা দেখাতে পারি এবং তাদের উৎসাহিত করতে পারি। কিংডম হলে আমরা আমাদের ভাই-বোনদের সঙ্গে দেখা করতে পারি, তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারি এবং তাদের শক্তিশালী করতে পারি। বর্তমানে, আমরা এমন একটা জগতে রয়েছি, যেখানে সবাই স্বার্থপর হয়ে যাচ্ছে এবং কেউ কারো জন্য চিন্তা করে না। তাই, ভাই-বোনেরা যখন সভাতে আসে, তখন আমরা যেন তাদের আশ্বস্ত করি যে, আমরা তাদের ভালোবাসি এবং তাদের জন্য চিন্তা করি। তখন তারা অনেক স্বস্তি পাবে এবং নিজেদের সুরক্ষিত বলে মনে করবে।

১৩. প্রাচীনেরা কীভাবে ভাই-বোনদের জন্য আশ্রয় হতে পারে? (ছবিও দেখুন।)

১৩ প্রাচীনেরাও অন্যদের জন্য আশ্রয় হতে পারে। কীভাবে? যদি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেয় অথবা যদি কোনো ভাই কিংবা বোন অসুস্থ হয়ে পড়েন, তখন প্রাচীনেরা তাদের সাহায্য করার জন্য কিছু ব্যবস্থা করে। ভাই-বোনেরা যদি কোনো ঝড়ের মতো সমস্যার মুখোমুখি হয়, তা হলেও প্রাচীনেরা তাদের উৎসাহিত করে। কিন্তু, কখন ভাই-বোনেরা প্রাচীনদের কাছে নির্দ্বিধায় সাহায্য চাইবে? যখন তারা এই বিষয়ে নিশ্চিত হবে যে, প্রাচীনেরা তাদের সঙ্গে সদয়ভাবে কথা বলে, তাদের কথা মন দিয়ে শোনে এবং তাদের অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করে। একজন প্রাচীন যখন তা করবেন, তখন ভাই-বোনেরা বুঝতে পারবে যে, সেই প্রাচীন তাদের ভালোবাসেন। আর তিনি যখন বাইবেল থেকে কোনো পরামর্শ দেবেন, তখন তারা সহজেই তা মেনে চলতে পারবে।—১ থিষল. ২:৭, ৮, ১১.

যখন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেয় অথবা কোনো বড়ো সমস্যা আসে, তখন প্রাচীনেরা ভাই-বোনদের জন্য আশ্রয় হয়ে ওঠে (১৩ অনুচ্ছেদ দেখুন) a


১৪. কীভাবে আমরা নির্ভরযোগ্য হতে পারি?

১৪ নির্ভরযোগ্য হোন। ভাই-বোনদের এই বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে, আমরা সবসময় তাদের সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত রয়েছি, বিশেষ করে কঠিন সময়ে। (হিতো. ১৭:১৭) কিন্তু, কীভাবে আমরা অন্যদের চোখে একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি হতে পারি? আমাদের ঈশ্বরের মতো গুণগুলো গড়ে তুলতে হবে। যেমন, আমরা যদি কাউকে কথা দিই, তা হলে সেটা রাখতে হবে এবং প্রতিটা কাজ সময়ে শুরু ও শেষ করতে হবে। (মথি ৫:৩৭) আমরা যখন দেখি, কারো সাহায্যের প্রয়োজন রয়েছে, তখন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাদের সাহায্য করতে হবে। শুধু তা-ই নয়, আমরা যে-দায়িত্ব পাই, আমাদের তা পালন করতে হবে এবং আমাদের যে-নির্দেশনা দেওয়া হয়, সেই অনুযায়ী কাজ করতে হবে। আমরা যখন তা করব, তখন অন্যেরা আমাদের উপর নির্ভর করতে পারবে।

১৫. প্রাচীনেরা যখন নির্ভরযোগ্য হয়, তখন ভাই-বোনেরা কোন উপকার লাভ করে?

১৫ নির্ভরযোগ্য প্রাচীনেরা মণ্ডলীর জন্য এক আশীর্বাদ। কীভাবে? যখন ভাই-বোনেরা জানতে পারে যে, তারা প্রাচীনদের, যেমন তাদের পরিচর্যা দলের অধ্যক্ষদের কাছে যেকোনো সময় সাহায্য চাইতে পারে, তখন তাদের চিন্তা অনেকটা কমে যায়। শুধু তা-ই নয়, প্রাচীনেরা যখন সাহায্য করার জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকে, তখন ভাই-বোনেরা দেখতে পায় যে, প্রাচীনেরা তাদের জন্য চিন্তা করে। যখন প্রাচীনেরা নিজেদের মনমতো নয় বরং বাইবেল এবং আমাদের প্রকাশনাগুলো থেকে পরামর্শ দেয়, তখন ভাই-বোনেরা তাদের উপর আরও বেশি করে নির্ভর করতে শুরু করে। এ ছাড়া, প্রাচীনেরা যখন ভাই-বোনদের গোপন কথা নিজেদের মধ্যে রাখে এবং তারা যে-কথা দেয়, সেই অনুযায়ী কাজও করে, তখন তাদের উপর ভাই-বোনদের নির্ভরতা আরও বেড়ে যায়।

১৬. আমরা যদি সত্যে স্থির থাকি, তা হলে আমরা নিজেরা এবং অন্যেরা কোন উপকার লাভ করব?

১৬ স্থির থাকুন। যখন ভাই-বোনেরা এটা দেখবে যে, আমরা যিহোবার আজ্ঞা মেনে চলি এবং বাইবেলের নীতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিই, তখন তারাও এটা করতে শিখবে। যখন আমরা ঈশ্বরের বাক্য নিয়ে অধ্যয়ন করি, তখন আমাদের বিশ্বাস আরও বেড়ে যায় এবং আমরা সত্যে স্থির থাকতে পারি। শুধু তা-ই নয়, আমরা মিথ্যা শিক্ষাগুলোর জালে জড়িয়ে পড়ি না এবং জগতের চিন্তাভাবনাকে নিজেদের উপর প্রভাব ফেলতে দিই না। (ইফি. ৪:১৪; যাকোব ১:৬-৮) আমাদের যিহোবার উপর এবং তাঁর প্রতিজ্ঞার উপর সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে, তাই খারাপ খবর শোনা সত্ত্বেও আমরা স্থির থাকি এবং শান্ত থাকি। (গীত. ১১২:৭, ৮) এ ছাড়া, আমরা তাদেরও সাহায্য করতে পারি, যারা সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।—১ থিষল. ৩:২, ৩.

১৭. কীভাবে প্রাচীনেরা ভাই-বোনদের শক্তিশালী করে?

১৭ প্রাচীনেরা প্রতিটা ক্ষেত্রে নিজেদের দমন করে, উত্তম বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন হয়, শৃঙ্খলাপরায়ণ হয় এবং যুক্তিবাদিতা দেখায়। তারা “ঈশ্বরের নির্ভরযোগ্য বাক্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসরণ” করে, তাই তারা ভাই-বোনদের শক্তিশালী করতে পারে এবং যিহোবার উপর তাদের বিশ্বাস বাড়াতে পারে। (তীত ১:৯; ১ তীম. ৩:১-৩) প্রাচীনেরা নিয়মিতভাবে সভায় যায়, প্রচারে যায় এবং ব্যক্তিগত অধ্যয়ন করে। এভাবে তারা অন্যদের জন্য একটা ভালো উদাহরণ রাখে। আর যখন প্রাচীনেরা ভাই-বোনদের সঙ্গে পালকীয় সাক্ষাৎ করে, তখন তারা ভাই-বোনদের এই কাজগুলো করতে উৎসাহিত করে। তাই, কোনো সমস্যা এলে ভাই-বোনেরা যখন চিন্তিত হয়ে পড়ে, তখন প্রাচীনেরা তাদের মনে করিয়ে দেয় যে, তারা যিহোবার উপর নির্ভর করতে পারে এবং তাঁর প্রতিজ্ঞাগুলো নিয়ে চিন্তা করতে পারে।

১৮. কেন আমরা যিহোবার প্রশংসা করতে চাই এবং তাঁর নিকটবর্তী হতে চাই? (“ যিহোবার নিকটবর্তী হওয়ার কিছু উপায়” শিরোনামের বাক্সটা দেখুন।)

১৮ যিহোবার গুণগুলো নিয়ে আলোচনা করার পর আমরাও রাজা দায়ূদের মতো নিজেদের এটা বলা থেকে আটকাতে পারি না, “আমার শৈল যিহোবার প্রশংসা হোক।” (গীত. ১৪৪:১, NW) আমরা পুরোপুরিভাবে যিহোবার উপর আস্থা রাখতে পারি যে, তিনি সবসময় আমাদের সঙ্গে থাকবেন, এমনকী আমাদের বয়স হয়ে গেলেও আমাদের একা ছেড়ে দেবেন না। তাই, আমরা সম্পূর্ণ আস্থা সহকারে বলতে পারি, ‘যিহোবা আমার শৈল।’—গীত. ৯২:১৪, ১৫, NW.

গান ১৫০ পরিত্রাণ পেতে ঈশ্বরের খোঁজ করেই চলো

a ছবি সম্বন্ধে বর্ণনা: কিংডম হলে একজন বোন নির্দ্বিধায় দু-জন প্রাচীনের সঙ্গে কথা বলছেন।