সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

আমার কি বিদেশে গিয়ে থাকা উচিত?

আমার কি বিদেশে গিয়ে থাকা উচিত?

যুবক-যুবতীদের জিজ্ঞাস্য. . .

আমার কি বিদেশে গিয়ে থাকা উচিত?

“আমি বাড়ি ছেড়ে অন্য কোথাও গিয়ে থাকতে চেয়েছিলাম।”—স্যাম।

“আমার কৌতূহল খুব বেশি ছিল। আর তাই আমি সবসময় নতুন নতুন বিষয় জানতে চাইতাম।”—ম্যারেন।

“আমার খুব কাছের এক বন্ধু আমাকে বলেছিল যে কদিনের জন্য বাড়ি ছেড়ে অন্য কোথাও গিয়ে থাকলে আমারই ভাল হবে।”—আন্দ্রিয়াস।

“আমি এডভ্যাঞ্চার ভালবাসতাম।”—হেগেন।

তুমি কি কখনও বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছ? প্রতি বছর হাজার হাজার যুবক-যুবতী বিদেশে যায়। আন্দ্রিয়াসও বিদেশে গিয়েছিল, সে বলে: “আমি আবারও বিদেশে যেতে চাই।”

কিছু যুবক-যুবতী টাকা রোজগার করার জন্য বা বিদেশি ভাষা শেখার জন্য অল্প সময়ের জন্য বিদেশে যায়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, অনেক দেশে অ-পেয়ার প্রোগ্রাম দিন দিন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। অ-পেয়ার প্রোগ্রামে যুবক-যুবতীরা বিদেশে একটা পরিবারের সঙ্গে থাকে ও তাদের ঘরের কাজকর্ম করে দেয় আর এর বদলে ওই পরিবার তাদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করে এবং অবসর সময়ে তারা ওই দেশের ভাষা শেখে। আবার কিছু যুবক-যুবতী পড়ালেখা করার জন্য বিদেশে যায়। কেউ কেউ আবার চাকরি করার জন্য বিদেশে যায় যাতে তারা তাদের পরিবারের ভরণপোষণ করতে পারে। কিন্তু এমন কিছু ব্যক্তিও আছে, যারা পড়ালেখা শেষ করে কী করবে তা ভেবে না পেয়ে বিদেশে পাড়ি জমায়।

কিছু খ্রীষ্টান যুবক-যুবতী তাদের প্রচার কাজকে আরও বাড়ানোর জন্য সেইসব দেশে গিয়েছে, যেখানে সুসমাচার প্রচার করার লোক খুব কম। বিদেশ যাওয়ার কারণ যাই হোক না কেন, বিদেশে গেলে একজন কিছুটা হলেও স্বাবলম্বী ও আত্মবিশ্বাসী হতে পারে। বিদেশে থাকলে তুমি ওই দেশের মানুষ, সংস্কৃতি ও কৃষ্টি সম্বন্ধে জানতে পারবে। এছাড়াও তুমি বিদেশি ভাষা শিখতে পারবে, যা তোমাকে চাকরি পেতে সাহায্য করবে।

তবে বিদেশে থাকা যে সবসময় মজার হবে তা নয়। উদাহরণ হিসেবে সুজানের কথা বলা যায়। সে পড়ালেখা করতে এক বছরের জন্য বিদেশে গিয়েছিল। সে বলে: “আমি ভেবেছিলাম বিদেশের সবকিছুই মজার হবে। কিন্তু, আসলে তা নয়।” কিছু যুবক-যুবতী খারাপ লোকেদের পাল্লায় পড়েছিল এবং বড় বড় সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিল। তাই বিদেশ যাওয়ার কথা মাথায় আনার আগে শান্তভাবে বসে এর ভাল ও খারাপ সবদিক ভেবে দেখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

কেন বিদেশে যেতে চাও তা ভেবে দেখ

ভাল ও খারাপ সবদিক ভেবে দেখার মানে হল যে তুমি কেন বিদেশে যেতে চাও, তা আগে ভাল মতো পরীক্ষা করে দেখা। ধর্মীয় কাজের জন্য বা পরিবারের ভরণপোষণের জন্য বাড়ি ছেড়ে অন্য কোথাও যাওয়া এক কথা। আর শুরুতেই যে যুবক-যুবতীদের কথা বলা হয়েছে তাদের মতো এডভ্যাঞ্চারের জন্য, আরেকটু স্বাধীনতার জন্য অথবা আনন্দ-ফূর্তির জন্য বিদেশে যেতে চাওয়া আরেক কথা। অবশ্য এইরকম চাওয়ার মধ্যে দোষের কিছু নেই। কারণ উপদেশক ১১:৯ পদ যুবক-যুবতীদেরকে ‘তরুণ বয়সে আনন্দ করতে’ বলে। কিন্তু ১০ পদ আবার সাবধান করে দেয়: “তোমার হৃদয় হইতে বিরক্তি দূর কর, শরীর হইতে দুঃখ অপসারণ কর।”

তুমি যদি বাবামার শাসনের হাত থেকে বাঁচার জন্য বিদেশে যেতে চাও, তাহলে তুমি হয়তো নিজেই নিজের জন্য ‘দুঃখ’ ডেকে আনছ। যীশুর বলা অপব্যয়ী পুত্রের গল্পটা কি তোমার মনে আছে? এই গল্পে ছোট ছেলে আরেকটু স্বাধীনতার আশায় স্বার্থপরের মতো বিদেশে চলে গিয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই তার জীবন দুঃখের কালো মেঘে ঢেকে যায়। তার সব টাকা ফুরিয়ে যায় আর এর ফলে সে খিদেয় কষ্ট পায় ও ঈশ্বরের সঙ্গেও তার সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়।—লূক ১৫:১১-১৬.

আবার কেউ কেউ আছে, যারা ঘরের অশান্তি থেকে রেহাই পাবার জন্য বিদেশে চলে যেতে চায়। কিন্তু, লেখিকা হাইকা বার্গ, কী হচ্ছে (ইংরেজি) নামে তার বইয়ে লিখেছেন: “ঘরে সুখ নেই বলে . . . বা কোথাও গেলে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে ভেবে যদি ঘর ছাড়তে চান, তবে সেই চিন্তা এখনই মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন!” হ্যাঁ, সমস্যা ছেড়ে পালিয়ে না গিয়ে কাছে থেকে মোকাবিলা করাই ভাল। কারণ পালিয়ে গেলেই যে সমস্যা মিটমাট হয়ে যাবে এমন কোন কথা নেই।

বিদেশ যেতে চাওয়ার আরেকটা কারণ হল, লোভ এবং আরও বেশি বেশি জিনিসপত্র পাওয়ার ইচ্ছা। ধনী হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে, অনেক যুবক-যুবতী ধনী দেশগুলো নিয়ে আকাশকুসুম কল্পনা করে। কেউ কেউ মনে করে যে পাশ্চাত্যের সব লোকই বুঝি ধনী। কিন্তু এটা একেবারেই সত্যি নয়। বিদেশে গিয়ে তারা দেখে যে এখানকার সবকিছুই তাদের কাছে কেমন যেন অপরিচিত লাগে আর শুধু খেয়েপরে বেঁচে থাকার জন্য তাদেরকে অনেক কষ্ট করতে হয়। * এই ব্যাপারে বাইবেল আমাদের সাবধান করে দেয়: “ধনাসক্তি সকল মন্দের একটা মূল; তাহাতে রত হওয়াতে কতক লোক বিশ্বাস হইতে বিপথগামী হইয়াছে, এবং অনেক যাতনারূপ কন্টকে আপনারা আপনাদিগকে বিদ্ধ করিয়াছে।”—১ তীমথিয় ৬:১০.

তুমি কি বিদেশে যাওয়ার জন্য তৈরি?

বিদেশে যাওয়ার আগে আরেকটা বিষয় চিন্তা করা জরুরি: বিদেশে গিয়ে তোমাকে যে কষ্ট করতে হবে, তোমার সামনে যে অসুবিধাগুলো আসবে ও তোমাকে যে সংগ্রাম করতে হবে তুমি কি সেগুলোকে মোকাবিলা করতে পারবে? তোমাকে হয়তো কারও সঙ্গে একই রুমে বা আরেকটা পরিবারের সঙ্গে থাকতে হতে পারে ও সেই পরিবারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য তোমার অভ্যাসে কিছুটা রদবদল করতে হতে পারে। তাই, তোমার কিছু বিষয় ভেবে দেখা দরকার। যেমন, এখন তোমার ঘরের লোকেদের সঙ্গে তুমি কেমন ব্যবহার কর? তোমার বাবামা কি অভিযোগ করেন যে তুমি অন্যদের কথা একটুও চিন্তা কর না ও সবসময় নিজেকে নিয়েই মেতে থাক? খাবারের ব্যাপারে তোমার কি খুঁতখুতে ভাব আছে? তুমি কি নিজের থেকে ঘরের কাজে হাত লাগাও? তুমি যদি মনে কর যে এই সমস্যাগুলো তোমার আছে, তাহলে ভেবে দেখ যে বিদেশে গিয়ে তোমার কী হাল হবে!

তুমি যদি একজন খ্রীষ্টান হও, তবে তুমি কি ঈশ্বরের সঙ্গে তোমার সম্পর্ক ঠিক রাখতে পারবে? বাইবেল পড়ার, মিটিংয়ে ও প্রচারে যাওয়ার কথা কি সবসময় তোমার বাবামা তোমাকে মনে করিয়ে দেন? দেশে তুমি যে বাধা ও প্রলোভনগুলোর মুখোমুখি হওনি বিদেশে গিয়ে যদি সেগুলোর মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে কি তুমি ঈশ্বরের সঙ্গে তোমার সম্পর্ককে মজবুত রাখতে পারবে? বিদেশে পড়তে যাওয়া এক খ্রীষ্টান যুবক প্রথম দিন যখন স্কুলে গিয়েছিল, সেদিনই তাকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে কোথায় মাদকদ্রব্য পাওয়া যাবে। পরে তার ক্লাসেরই একটা মেয়ে তাকে তার সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলেছিল। তার দেশে কোন মেয়ে কখনও এতটা খোলাখুলিভাবে এইরকম কথা বলে না। ইউরোপে গিয়ে আফ্রিকার এক যুবক বলে: “আমাদের দেশে কোথাও অশ্লীল, নোংরা ছবি এতটা খোলাখুলিভাবে দেখা যায় না। কিন্তু এখানে তুমি যেদিকে তাকাবে সেদিকেই এরকম ছবি দেখবে।” তাই “বিশ্বাসে অটল” নয় এমন কেউ যদি এইরকম দেশে যায়, তাহলে ঈশ্বরের সঙ্গে তার সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যেতে পারে।—১ পিতর ৫:৯.

ভাল মতো খোঁজখবর নাও!

বিদেশে যাওয়ার আগে সব বিষয়ে ভাল মতো খোঁজখবর নেওয়া দরকার। অন্য কারও কথা শুনে বিদেশে যাওয়ার কথা মাথায়ই এনো না। তুমি যদি বিদেশে গিয়ে পড়তে চাও, তাহলে কত খরচ লাগবে তা কি তুমি জান? তুমি শুনে হয়তো অবাক হবে যে বিদেশে পড়ালেখা করতে হাজার হাজার টাকা লাগে। এছাড়াও তোমার খোঁজ নেওয়া দরকার যে বিদেশে গিয়ে তুমি যে বিষয়ে পড়ালেখা করবে, তোমার নিজের দেশে সেই শিক্ষা কাজে আসবে কিনা। এছাড়া তুমি যে দেশে যেতে চাও সেই দেশ সম্বন্ধে, ওই দেশের আইন, সংস্কৃতি এবং রীতিনীতি সম্বন্ধে যতটা পার খোঁজখবর নাও। ওখানে থাকতে কত খরচ লাগে? কোন্‌ কোন্‌ বিষয়ের জন্য সরকারকে কর দিতে হবে? ওখানে গেলে তুমি অসুস্থ হয়ে পড়বে কিনা? এই বিষয়গুলো জানার জন্য যারা আগে ওই দেশে ছিল তাদের সঙ্গে কথা বললে ঠিক খবর পাওয়া যাবে।

এরপর আসে যে সেখানে গিয়ে তুমি কোথায় থাকবে। ছাত্ররা যে বাড়িতে থেকে পড়ালেখা করে তার জন্য গৃহকর্তা সাধারণত কোন টাকাপয়সা নেন না। তবুও যারা বাইবেলের নীতিগুলো মেনে চলে না তাদের সঙ্গে থাকলে প্রচুর চাপ ও বাধা আসতে পারে। এর বদলে হয়তো খ্রীষ্টান বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়দের সঙ্গে থাকলে আরও ভাল হয়। কিন্তু খেয়াল রাখা দরকার যে তোমার জন্য তাদের কোন অসুবিধা হচ্ছে কিনা। অসুবিধা হলেও তারা হয়তো তোমাকে থাকার জন্য বলতে পারে কিন্তু এতে করে তুমি তাদের বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পার আর এর ফলে তাদের সঙ্গে তোমার সম্পর্কে ভাটা পড়তে পারে বা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।—হিতোপদেশ ২৫:১৭.

তুমি যদি বিদেশে গিয়ে টাকা রোজগার করতে চাও, তাহলে ভুলে যেও না যে সরকারি আইন মেনে চলা তোমার খ্রীষ্টীয় দায়িত্ব। (রোমীয় ১৩:১-৭) ওই দেশের আইন অনুসারে তুমি কি সেখানে থেকে কাজ করতে পার? যদি কাজ করা যায়ও, কোন্‌ কোন্‌ শর্তে করা যাবে? তুমি যদি অবৈধভাবে কাজ কর, তাহলে একজন সৎ খ্রীষ্টান হিসেবে তোমার যে সুনাম ছিল তা নষ্ট হয়ে যাবে এবং নিরাপত্তার জন্য যে সুযোগসুবিধাগুলো আছে, যেমন দুর্ঘটনার জন্য যে বীমা রয়েছে তার থেকে বঞ্চিত হতে পার। এমনকি তুমি যদি বৈধভাবেও কাজ কর, তবুও তোমাকে সাবধান থাকতে হবে ও বুদ্ধি খাটাতে হবে। (হিতোপদেশ ১৪:১৫) কারণ এমন অনেক বিবেকহীন লোকেরা আছে, যারা বিদেশিদের অসহায় অবস্থার সুযোগ নেয়।

যাবে কী যাবে না তা ঠিক করা

অতএব, এটা পরিষ্কার যে বিদেশে যাবে কী যাবে না তা ঠিক করা যে সে বিষয় নয় আর এটাকে হালকাভাবে দেখাও উচিত না। তোমার বাবামার সঙ্গে বস এবং বিদেশে গেলে কী লাভ হতে পারে বা কী কী বিপদ আসতে পারে সবকিছু আলোচনা কর। বিদেশে যাওয়ার ইচ্ছা যেন তোমার বুদ্ধি বিবেচনাকে লোপ না করে দেয়। তুমি আসলে কেন বিদেশে যেতে চাও, তা যাচাই করে দেখার সময় কোনরকম মিথ্যার আশ্রয় নিও না। তোমার বাবামা কী বলেন তা মন দিয়ে শোন। কারণ তুমি তাদের কাছ থেকে যত দূরেই থাক না কেন, তোমার ব্যাপারে তাদের দায়িত্ব থেকেই যায়। এছাড়া তোমার হয়তো তাদের কাছ থেকে টাকাপয়সাও নিতে হতে পারে।

সবকিছু ভেবে দেখার পর তোমার হয়তো মনে হতে পারে যে এই মুহূর্তে বিদেশে যাওয়া তোমার জন্য ঠিক হবে না। এর জন্য তোমার হয়তো মন খারাপ লাগতে পারে কিন্তু বিদেশ যাওয়া ছাড়াও, আরও অনেক আগ্রহজনক কাজ আছে যা তুমি করতে পার। যেমন, তুমি কি তোমার দেশে যে সুন্দর সুন্দর জায়গাগুলো আছে সেখানে গিয়েছ? অথবা এখনই একটা বিদেশি ভাষা শিখতে শুরু কর না কেন? এক সময় তুমি হয়তো বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পেয়েও যেতে পার।

আর তুমি যদি বিদেশে যাবে বলে ঠিক করেই থাক, তাহলে? পরে একটা প্রবন্ধে আলোচনা করা হবে যে বিদেশে গিয়ে তুমি কী করে ভালভাবে থাকতে পারবে।

[পাদটীকাগুলো]

^ ওয়াচটাওয়ার বাইবেল আ্যন্ড ট্র্যাক্ট সোসাইটির ১৯৯২ সালের ১লা জানুয়ারি সংখ্যা প্রহরীদুর্গ এর “একটি স্বাচ্ছন্দপূর্ণ দেশে যাওয়ার মূল্য হিসাব করা” প্রবন্ধটা দেখুন।

[১৫ পৃষ্ঠার চিত্র]

কিছু যুবক-যুবতী প্রচার কাজকে আরও বাড়ানোর জন্য বিদেশে যায়

[১৬ পৃষ্ঠার চিত্র]

বিদেশে গেলে কী লাভ হবে ও কী কী বিপদ আসতে পারে তা নিয়ে বাবামার সঙ্গে বসে কথা বল